প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দামামা বাজছে সারা দেশে। এই নির্বাচনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে ফেনী-২ (সদর) আসন। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। ফেনী জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হকের কার্যালয়ে তিনি এই মনোনয়নপত্র জমা দেন।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে মঞ্জু তাঁর পৈতৃক ভিটায় বাবার কবর জিয়ারত করেন এবং মায়ের দোয়া নেন। এই আবেগঘন মুহূর্তের পর শর্শদীতে আয়োজিত মিয়া ও দোয়া অনুষ্ঠানে স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। এটি কেবল একটি নির্বাচনী প্রক্রিয়া নয়, বরং ফেনীর মাটিতে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কারের এক নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
বাংলাদেশের রাজনীতির দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৫০-এর দশকে ভাষা আন্দোলনের সূচনালগ্ন থেকেই এদেশের মানুষ ন্যায়ের পক্ষে লড়াই করেছে। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে বাঙালির যে ঐক্য দেখা গিয়েছিল, তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে আমরা অর্জন করি লাল-সবুজের পতাকা। ১৯৫০ থেকে ২০২৫—এই ৭৫ বছরের দীর্ঘ পথপরিক্রমায় বাংলাদেশ বহু চড়াই-উতরাই দেখেছে।
১৯৭০-এর নির্বাচনে এদেশের মানুষ যেমন শোষণের বিরুদ্ধে ম্যান্ডেট দিয়েছিল, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও ছাত্র-জনতা একই স্পৃহা নিয়ে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে। ২০২৫ সালের এই নির্বাচন মূলত সেই ‘জুলাই বিপ্লবের’ অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লড়াই। মজিবুর রহমান মঞ্জু মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন এবং শহীদ ওসমান হাদিসহ সব হত্যাকাণ্ডের বিচারের প্রশ্নে যারা বেশি কমিটেড, তাদের সঙ্গেই আমাদের আসন সমঝোতা হয়েছে।”
ফেনী-২ আসনের রাজনীতিতে এবার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। আসন সমঝোতার অংশ হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর জনপ্রিয় প্রার্থী অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া মজিবুর রহমান মঞ্জুকে সমর্থন দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। মঞ্জু তাঁর বক্তব্যে লিয়াকত আলীর এই ত্যাগকে ফেনীবাসীর জন্য এক অনন্য নজির হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বৃহত্তর স্বার্থে এই ঐক্যকে স্বাগত জানান।
মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় নির্বাচনী আইন মেনে তাঁর সাথে উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শাহ আলম বাদল, জেলা আহ্বায়ক মাস্টার আহসানুল্লাহ, এনসিপির জেলা আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম সৈকত, এনজিও ব্যক্তিত্ব মায়মুনা আক্তার রুবি এবং সাংবাদিক হাবীব মিয়াজি।
নির্বাচনী কার্যালয়ে মঞ্জু যখন মনোনয়নপত্র জমা দিতে যান, তখন সেখানে এক সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ দেখা যায়। তিনি বিএনপি নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টু, রফিকুল আলম মজনু এবং জামায়াত নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান ও ডাক্তার ফখরুদ্দিন মানিকের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তবে নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে তিনি প্রশাসনের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান। মঞ্জু বলেন, “অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান চালানো জরুরি, যাতে ভোটাররা নির্ভয়ে কেন্দ্রে যেতে পারেন।”
মতবিনিময় ও মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াত নেতা মেসবাহ উদ্দিন সাঈদ, আ ন ম আব্দুর রহিম, এবি পার্টির ফজলুল হক, নজরুল ইসলাম কামরুল, শাহীন সুলতানী এবং এনসিপি ও গণতান্ত্রিক সংস্কার জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা।
সূত্র: ১. ফেনী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় (২৯ ডিসেম্বর ২০২৫)। ২. এবি পার্টি ও এনসিপি কেন্দ্রীয় প্রচার সেল। ৩. বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবর্তন ও নির্বাচন কমিশন আর্কাইভ (১৯৫০-২০২৫)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |